এমন গোলে গোলরক্ষকের কিছুই করার থাকে না!

0
284

একহারা গড়ন। উচ্চতা মেরেকেটে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। প্রথম দর্শনে আর যা-ই হোক ফরোয়ার্ড হিসেবে খুব ভরসা করা যায় না। অথচ এই ছোটখাটো রুবেল মিয়া এমনই সব গোল করে থাকেন যে গোলরক্ষকের কিছুই করার থাকে না। তাঁর প্রতিটি গোলই ছাড়িয়ে যায় আগেরটিকে।
এএফসি কাপে আইজল এফসির বিপক্ষে আবাহনী লিমিটেডের ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে রুবেলের গোলটিই যেমন। এমেকার বাড়ানো পাস বক্সের ডান প্রান্তে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আউটসাইড-ইনসাইড শরীরটা ঝাঁকি দিয়ে আলতো করে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে দূরের পোস্টে জালে জড়িয়ে দিলেন। কোমরে হাত দিয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকলেন আইজল গোলরক্ষক লালাওপুইয়া। ভাবখানা এমন যেন, এভাবে গোল করলে কীই-বা করার আছে আমার?
আসলে রুবেলের ‘ব্যানানা কিক’ গোলটি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না তাঁর। গোলটি এএফসি কাপের শেষ সপ্তাহের সেরা গোলের তালিকায় দুই নম্বরে আছে। কোচ সাইফুল বারী টিটুও গোলটির খুব প্রশংসা করলেন, ‘খুবই সুন্দর গোল ছিল। এমন গোল করতে পারলে দলের স্পিড বেড়ে যায় অনেক।’
গত বছরে এএফসি কাপেও ভারতীয় বেঙ্গালুরু এফসির বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে দুর্দান্ত একটি গোল করেছিলেন আবাহনী লিমিটেডের উইঙ্গার। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রতি-আক্রমণ থেকে বল পেয়ে মাঝমাঠ থেকে সরাসরি শটে বল জালে জড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেবারও গোলরক্ষকের আসলে কিছুই করার ছিল না। তিনি তো তখন মাঝমাঠে মাটিতে পড়ে আছেন! গোলটি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে আবাহনীর ক্রোয়েশিয়ান কোচ দ্রাগো মামিচ বলেছিলেন, ‘আমি অনেক খেলোয়াড়কে অনেক রকম গোল করতে দেখেছি। কিন্তু রুবেলের গোলটি আমার দেখা সেরা দূরপাল্লার গোল।’
শুধু এএফসি কাপই নয়, আন্তর্জাতিক অন্যান্য টুর্নামেন্ট ও ঘরোয়া ফুটবলে এমন অহরহ দুর্দান্ত গোল আছে রুবেলের। ২০১৩ সালে ইরাকে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে শক্তিশালী কুয়েতের বিপক্ষে রুবেলের একমাত্র গোলেই জিতেছিল বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টার গোলে কুয়েতের গোলরক্ষককে বোকা বানিয়েছিলেন। ফুটবলের যেকোনো পর্যায়ে কুয়েতের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের প্রথম জয়।
ঘরোয়া ফুটবলেও করে দেখিয়েছেন কিছু দর্শনীয় গোল। গত মৌসুমে স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে আবাহনীর বিপক্ষে চোখধাঁধানো এক বাইসাইকেল কিকের গোলে চট্টগ্রাম আবাহনীকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। সেই গোলটিও কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছিলেন গোলরক্ষক শহিদুল আলম। চট্টগ্রাম আবাহনীর সে সময়ের স্লোভাক কোচ জোজেফ পাভলিক বলেছিলেন, এমন গোল নাকি তিনি কেবল চ্যাম্পিয়নস লিগেই দেখেছেন। এমন গোল বারবার করার সামর্থ্য রুবেলের আছে—এ কথাও বলেছিলেন সেই কোচ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here