বৈদ্যুতিক টাওয়ারের মাথায় ছয় ঘণ্টা!

0
173

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ১২০ ফুট উঁচু বৈদ্যুতিক টাওয়ারের চূড়ায় উঠে বসে ছিলেন নাজমুল হোসেন (২৩)। ওই টাওয়ারের তার দিয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। খবর পেয়ে জড়ো হয় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জামিল খান কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় টাওয়ারের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, টাওয়ারের চূড়ায় ওঠা নাজমুল হোসেন মানসিক রোগী। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাঁকে টাওয়ার থেকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে বিদ্যুতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মীর প্রচেষ্টায় তাঁকে নামিয়ে আনা হয়। বহু চেষ্টার পর খাবার খাইয়ে ও টাকা দেওয়ার কথা বলে নামিয়ে আনা হয় নাজমুলকে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জামিল খান কমপ্লেক্সের সামনে ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের ১২০ ফুট উঁচু বৈদ্যুতিক টাওয়ারে উঠতে শুরু করেন নাজমুল। স্থানীয় লোকজন তাঁকে বারবার বারণ করেও ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে তিনি ওই টাওয়ারের চূড়ার ওপরে উঠে বসে থাকেন। এলাকার লোকজন ও পথচারীরা ওই ব্যক্তিকে নেমে আসতে বললেও শোনেননি তিনি। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। তারা ঘটনাস্থলে এসে ওই টাওয়ারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত মাইকিং করেও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই ব্যক্তিকে টাওয়ারের চূড়া থেকে নামাতে পারেনি।

সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল হোসেন হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুতের ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত তিন কর্মীকে কিছু খাবার, পানি ও নগদ টাকাসহ টাওয়ারে নাজমুলের কাছাকাছি পাঠানো হয়। তাঁরাই নাজমুলকে খাবার খাইয়ে ও নগদ টাকা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাওয়ার থেকে নামিয়ে আনেন। নাজমুল বলেছেন, তাঁর বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পারুল আক্তার নামের এক তরুণী ২ লাখ ৩০ হাজার ভোল্টের ১৩৩ ফুট উঁচু টাওয়ারে উঠে গিয়েছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here